আশিকুল ইসলাম, বেলকুচি প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি প্রোগ্রামগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটির বিরোধী মত দমন, সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতনের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও, তারা সরকারি মঞ্চের মাধ্যমে পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি এক সরকারি অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাকা হয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন—যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকাকালীন জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করেছে, তারা কীভাবে সরকারি অনুষ্ঠানে বিশেষ স্থান পেতে পারে?
এ ঘটনার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা চলছে। অভিযোগ, তিনি সরকারি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাদের জন্য নিয়মিত ‘ঠাঁই’ করে দিচ্ছেন, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। স্থানীয়রা মনে করছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ স্থানীয় পর্যায়ে পুনরায় প্রভাব বিস্তার করতে চাচ্ছে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “যারা বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের আবার সরকারি মঞ্চে তুলে দেওয়া আমাদের জন্য অপমানজনক। এটি স্থানীয় সরকারের নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নষ্ট হলে শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় না, বরং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব পড়ে। “যদি রাজনৈতিক প্রভাব এইভাবে প্রশাসনে প্রবেশ করতে থাকে, তবে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে এবং সামাজিক বিভাজন বাড়বে,” মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি যদি অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তবে এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ও রাজনৈতিক মঞ্চের এ ধরনের ব্যবহার নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু মতভেদ ও গসিপ শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি প্রোগ্রামগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাই জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন