স্টাফ রিপোর্টার
খাগড়াছড়িতে এক স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান শোনা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি চিহ্নিত মহল এসব কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছে এবং কোমলমতি পাহাড়ি শিশুদেরও রাস্তায় নামাচ্ছে।
মিছিলটি ধর্ষকের বিচারের দাবিতে আয়োজিত হলেও সেখানে শোনা যায় ভিন্নধর্মী স্লোগান— “অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে”, “ভূমি অধিকার দিয়ে দাও দিতে হবে”, “পাহাড়ে সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করতে হবে”। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— তারা কি সত্যিই ধর্ষকের বিচার চাইছে নাকি ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে?
স্থানীয়রা জানান, ধর্ষণের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে করা উচিত ছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি ভাঙচুর, শিশুদের সড়কে নামানো এবং অবরোধের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি এসব কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্ত এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালত তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও অভিযুক্তদের সময় না দিয়ে আন্দোলনকারীরা অবরোধ ও মহাসমাবেশের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে ধর্ষণকে কেন্দ্র করে একটি মহল নিজেদের রাজনৈতিক ও স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে পাহাড়কে অশান্ত করতে চাইছে। তাদের অভিযোগ, নারীর সম্ভ্রমকেও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পাহাড়ের সাধারণ জনগণ শান্তি চায়, তারা সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাসী নয়। তারা চায়— ধর্ষক, চাঁদাবাজ ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকুক।
সার্বিকভাবে, ধর্ষণের ন্যায়বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন