হাফিজুর রহমান সাতক্ষীরা (কালীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
শারীরিক প্যারালাইজ, মানসিক ভারসাম্যহীন আব্দুর রশিদ নামে এক সাবেক সেনা সার্জেন্টের বাড়ি জমি ফিল্মি কায়দায় ড্রাম্পার দিয়ে গুঁড়িয়ে ,ভাঙচুর ও দখলে নিয়েছে প্রতিপক্ষ মোবারক বাহিনীর দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ দেওয়া ছাড়াও ভুক্তভোগী সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ থানায় এজাহার দিলেও গত ২ দিনে মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। থানার অফিসার্স ইনচার্জ মিজানুর রহমান বললেন যাচাই-বাছাই করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ফিল্মি স্টাইলের ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬ টার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। দুর্বৃত্তদের ফিল্মি কায়দায় দখল ভাঙচুরের ঘটনা সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। বর্তমান দুর্বৃত্তদের প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে এবং মামলা না নেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে গৃহবন্দী হয়ে আছে সাবেক এ সেনা পরিবারটি। থানায় এজাহার ও ভুক্তভোগী প্যারালাইজড মানসিক ভারসাম্যহীন সাবেক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী রওশনারা বেগম এবং পুত্র আবু রাসেল এ প্রতিনিধিকে জানান গোবিন্দপুর বড় মৌজার আর এস৬২৮,৬২৯ নং খতিয়ানের ১৩১৪,১৩১৭,,১৩১৮ দাগে ৩৬ শতক জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের মৃত শহর আলীর তরফদারের পুত্র মোবারক এবং মহিউদ্দিন তরফদার গংয়ের সঙ্গে সাতক্ষীরা সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি ৩৬২/২০২৩ নং মামলায় গত ৪/৬/২৩ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক ডিগ্রী প্রাপ্ত হওয়ায় গত ১৬/৭/২০২৪ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক জমিতে লাল পতাকা দিয়ে জরিপ করে আমাদের দখল বুঝিয়ে দেয়। সেই থেকে আমরা উক্ত জমিতে প্রাচীর বাড়ি করে ভোগ দখলে আছি। গত মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সকাল ৬ টার দিকে মোবারক মহিউদ্দিন তরফদারের নেতৃত্বে আনিসুর ,অফিস, মনিরুল , মহিউদ্দিন মইনুর তরফদার সহ ১০/১২ জনের
দুর্বৃত্তরা হাতে দা, লাঠি ,সাবল ,অবৈধ অস্ত্র শস্ত্রসহ ডাম্পার মেশিন নিয়ে অতর্কিত প্রাচীর ও বাড়ি ভাঙচুর করে ফিল্মি কায়দায় দখল করে নেয়। বিষয়টি নিয়ে আমার প্যারালাইজড মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামীকে নিয়ে সেনা ক্যাম্পে গেলে থানায় যেতে বলে। আমরা ঐ দিন থানায় এজাহার দিলে থানার উপ পরিদর্শক কাশেদ এসে তদন্তে সত্যতা পেলেও রহস্যজনক কারনে এখনো পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা জানার জন্য মোবারক তরফদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান ১৯৮৮ সালে আমার কাছ থেকে ৩৩ শতক জমি ক্রয় করে এবং আমার এক শরিকের নিকট থেকে ৪ শতক জমি ক্রয় করে। আমি বিক্রি করার পরও ঐখানে আমার এখনো ১ শতক জমি আছে। বর্তমান ঐ জমি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে বলে জানালেও জবাব দখলের বিষয়ে কোনো সদুউত্তর পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানের জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন অভিযোগ পেয়েছি যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন