কালিগঞ্জে অনুমোদনবিহীন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ভুয়া রিপোর্ট ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫(শনিবার)
চিকিৎসার নামে প্রতারণা, ভুল রিপোর্ট প্রদান ও রোগীর শারীরিক ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের স্থানীয় “হযরত আলী ওরফে শের আলী ডিজিটাল ল্যাব এন্ড হাসপাতালের বিরুদ্ধে
এ ব্যাপারে গড়ুইমহল গ্রামের ফজলুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী রুগী সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন সহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি নিয়ে অনুমোদন বিহীন শের আলী ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালের মালিক সিরাজুল ইসলামের দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী ফজলুর রহমানের অভিযোগে জানা যায় তিনি অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় গ্রাম ডাক্তার আবু মুসার পরামর্শে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে তার পেট ব্যথার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোন কিছু না পাওয়ায় পরে তাকে আল্ট্রাসোনা করতে বলা । ফজলুর রহমান তাৎক্ষণিক সেখানে আলট্রাসনোগ্রাম সহ সকল পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদান করা হয়। সেখানে দেখা যায় ডাঃ মাসুদুর রহমান এমবিবিএস ,আল্ট্রাসোনা বিশেষজ্ঞ হিসেবে রিপোর্টে স্বাক্ষর করা আছে। একজন পুরুষ রোগীর জরায়ুর সমস্যা উল্লেখ করে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে একটি জাল স্বাক্ষরিত রিপোর্ট প্রদান করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, রোগী ফজলুর রহমানকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করে ভুল চিকিৎসার ফলে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক ডাক্তারকে দেখালে তিনি একজন পুরুষ রোগীর ক্ষেত্রে কিভাবে জরায়ু সমস্যা থাকে সেটা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। এবং ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ফজলুর রহমানের পরিবারের নিকট থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে ফেরত যেয়ে রিপোর্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারে নাই। অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতাল থেকে ওই রোগীকে তাড়িয়ে দেওয়ার সময় বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। পরে এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর আগেও এই হাসপাতালে এক প্রসূতির ভুল সিজারের মাধ্যমে মেরে ফেলা হয়। উক্ত ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম সহ ডাক্তার তানিয়া পালিয়ে জীবন রক্ষা পায়। পরে ওই পরিবারকে কোন ক্ষতিপূরণ না দিয়েই বহাল তবিয়াদে এখনও অনুমোদন বিহীন এই ক্লিনিক পরিচালিত হয়ে আসলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরা শুধু মাসোহারা নিয়েই সন্তুষ্ট আছে। এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল কবির জানান অভিযোগ হাতে পেয়েছি এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুজা মন্ডল জানান অভিযোগ হাতে পেয়েছি বিষয়টি জনস্বার্থে গুরুতর ভাবে ব্যবস্থা এবং ওই হাসপাতালের লাইসেন্স থাকলে সেটা বাতিল করা হবে অন্যথায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার কথা জানান।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম এ প্রতিনিধিকে জানান অভিযোগ পাওয়ার পরে একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দ্রুত ওই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অনুমোদন বিহীন ক্লিনিক এন্ড হাসপাতাল কিভাবে চলছে এ বিষয়ে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এদিকে ভুক্তভোগী ফজলুর রহমান তার চিকিৎসা সেবায় গাফিলাতি এবং ভুয়া রিপোর্টের অভিযোগের সঠিক তদন্ত করে উপযুক্ত শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে ক্লিনিক মালিক সিরাজুল ইসলাম তার ভুলের কথা স্বীকার করে বিষয়টি নিয়ে কোন পত্র পত্রিকায় না লেখার জন্য অনুরোধ জানান।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন