সেনাপ্রধান ও তার বাহিনীকে নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং একটি খোলা চিঠি

প্রিয় পাঠক,
বাংলাদেশ আজ এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। এই সংকটটি কোনো অর্থনৈতিক সংকট নয়, কিংবা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগও নয়; এটি একটি নৈতিক ও মূল্যবোধের সংকট, যার বিষবৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে তরুণ রাজনীতিকদের মগজে। মননে। দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমের অন্ধকার গলি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে গালিগালাজ, মিথ্যাচার ও চরিত্রহানির এক ভয়ঙ্কর সংস্কৃতি। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপজ্জনক দিকটি হলো- জাতীয় নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ সেনাবাহিনী এবং স্বয়ং সেনাপ্রধানকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল মন্তব্যের স্রোত বয়ে যাওয়া।

সেনাবাহিনী যে কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জীবন্ত প্রতীক। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে, যেখানে নানামুখী অভ্যন্তরীণ ও বৈদিশিক হুমকি বিদ্যমান; সেখানে এই বাহিনীর ভূমিকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই বাহিনীই দেশের অভ্যন্তরে দুষ্কৃতিকারী, জঙ্গি ও অসাংবিধানিক শক্তির বিরুদ্ধে অকুতোভয় যোদ্ধা তেমনি বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রক্ষাকবজ। ভুলে গেলে চলবে না, এই বাহিনীর দেশ ও জনগণের প্রতি সদয় মনোভাবের ফসল- জুলাই আন্দোলনের সফলতা। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতন। 

অথচ, এই দেশপ্রেমিক বাহিনী এবং তার প্রধানকেই আজ টার্গেট করা হচ্ছে- এক সুপরিকল্পিত ও নোংরা প্রচারণার মাধ্যমে। এটি শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ আঘাত।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মিশেল ফুকো ভাষাকে ‘ক্ষমতার হাতিয়ার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে সেনাপ্রধানকে নিয়ে ছড়ানো কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এই তত্ত্বকেই সত্য প্রমাণ করছে। ষড়যন্ত্রকারীরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, সেনাবহিনী ও তার প্রধানকে জনগণের চোখে হেয় করা, তার কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং রাষ্ট্রের জাতীয় স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করা। কারণ, তখনই তাদের স্বার্থ হাসিল সম্ভব।

এখন প্রশ্ন হলো- এই অপতৎপরতার পেছনে কারা? এর উত্তর স্পষ্ট, যারা রাষ্ট্রকে দুর্বল দেখতে চায়, যারা অস্থিতিশীলতায় রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়, এবং যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নিজেদের অবৈধ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়, তারাই এই নোংরা এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে। তারা তাদের নোংরা রাজণৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে রাষ্ট্রের স্বার্বভৌমত্বকে বিসর্জন দিতে দ্বিধা করছে না।

সেনাপ্রধানকে গালি দেওয়া শুধু একজন ব্যক্তিকে অপমান করা নয়; এটি সমগ্র সেনাবাহিনীকে অপমান করা, দেশের প্রতি তাদের ত্যাগ ও উৎসর্গকে অবমূল্যায়ন করা। এটি সমগ্র জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষুণ্ণ করার এক ভয়ঙ্কর ধৃষ্টতা। এই ধরনের গালির অপসংস্কৃতি দেশের ভিতরে গভীর বিভাজন তৈরি করেছে, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কে ফাটল ধরানোর পথকে সুগম করছে। এবং শেষ পর্যন্ত এটি দেশকে একটি গৃহযুদ্ধের দিকেই ঠেলে দিতে পারে, যা আমাদের কারোই কাম্য নয়। 

তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ জরুরি। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সকল সকল রাজনৈতিক আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সেনাবাহিনীসহ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলকে ঘৃণা ও অপব্যবহারের রাজনীতি ত্যাগ করে সুস্থ ও সম্মানজনক বিতর্কে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।

বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। বর্তমানে একদিকে রয়েছে অগ্রগতি এবং স্থিতিশীলতার পথ; অন্যদিকে রয়েছে বিভ্রান্তি, সংঘাত এবং অস্থিরতার গহ্বর। সেনাবাহিনী এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে টার্গেট করে চলমান এই আক্রমণ দেশকে সেই অস্থিরতার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে। তাই জাতীয় স্বার্থে, দেশপ্রেমের দাবিতে, এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। নইলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

সময় এখন সচেতন হওয়ার, রুখে দাঁড়ানোর এবং দেশকে রক্ষা করার।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন